চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে সালিশ বৈঠকের সময় আলিমুদ্দীন (৫২) নামের এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাত ৯টার দিকে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজনের উপস্থিতিতে ওই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভুট্টা বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
নিহত আলিমুদ্দীন শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের কুমিরপাড়ার মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে এবং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে (৪৮) আটকে রাখে। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। লিয়াকত আলী শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুট্টা বিক্রির ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা নিয়ে আলিমুদ্দীনের পরিবারের সঙ্গে লিয়াকত আলীর বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আলিমুদ্দীনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই কালু মণ্ডল বলেন, “সবার সামনে আমার ভাইকে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজন বলেন, ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে সালিশ চলছিল। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজান রহমান জানান, ঘটনায় লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
0 Comments