ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে চলমান বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। একসময় কলকাতা শহর এবং আশপাশের এলাকাগুলোকে তৃণমূল কংগ্রেস ও এর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো। তবে এবারের নির্বাচনে সেই সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
সাম্প্রতিক ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, কলকাতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। যদিও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এখনও নিজ আসনে এগিয়ে রয়েছেন, তবুও সামগ্রিক ফলাফল তৃণমূলের জন্য স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে বিধানপুর ও চৌরাঙ্গী—যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের ‘নিশ্চিত ভোটের এলাকা’ হিসেবে পরিচিত—সেখানেও বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই আসনগুলোতে এমন ফলাফল অনেককেই বিস্মিত করেছে।
অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-রানাঘাট বেল্ট, যা ‘মতুয়া ভোট’-এর জন্য পরিচিত, সেখানেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মতুয়া সম্প্রদায়ের সমর্থন তৃণমূলের পক্ষে থাকলেও এবারের ভোটে বিজেপির শক্ত অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দমদম এলাকাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে পূর্বের আলাপচারিতায় হিন্দুত্ববাদবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট থাকলেও, এবারের গণনায় একাধিক রাউন্ড শেষে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে, যেখানে মুসলিম ভোটারদের প্রাধান্য বেশি। ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলাতেও সর্বশেষ ফলাফলে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিক নির্বাচনী চিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে—এই রাজ্যে যে দল একবার ক্ষমতায় আসে, তারা সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকে। স্বাধীনতার পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রায় ৩০ বছর শাসন করেছে। এরপর বামফ্রন্ট টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল। পরে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস গত প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজ্য শাসন করছে।
এমন প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে বিজেপির উত্থান এবং তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই ‘গেরুয়া ঝড়’ আদৌ স্থায়ী হয় কিনা এবং নবান্ন-এ ক্ষমতার পালাবদল ঘটে কি
0 Comments