২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে দারুণ সূচনা করেছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড-এর জোড়া গোলে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’-এর প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপের দলটি।
মঙ্গলবার বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমবারের মতো কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে গোলের দেখা পান ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। তবে ১০ মিনিট পরই হেডে গোল করে ইরাককে সমতায় ফেরান আয়মান হুসেইন।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও জ্বলে ওঠেন হালান্ড। ইরাকের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাত্র ৫১ ম্যাচে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্নার থেকে হেডে গোল করেনলিও ওস্টিগার্ড। ৭৬ মিনিটের সেই গোল নরওয়ের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। যোগ করা সময়ে আয়মান হুসেইনের আত্মঘাতে ব্যবধান আরও বাড়ে।
এই জয়ে গোল ব্যবধানে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল,যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে।
বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে দীর্ঘ ৮৬৭ দিনের অভিযানে ২১টি ম্যাচ খেলতে হয়েছিল ইরাককে। মার্চে শেষ দল হিসেবে টুর্নামেন্টে জায়গা নিশ্চিত করা দলটি ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে নরওয়ে। কোচ স্টোলে সোলবাক্কেন-এর নেতৃত্বে হালান্ড ওমার্টিন ওডেগার্ড-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ‘সোনালি প্রজন্ম’ এবার বিশ্বকাপে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে।
হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন হালান্ড, তবে ইরাক গোলরক্ষক জালাল হাসান তার আরেকটি নিশ্চিত গোল রুখে দেন। তবুও জোড়া গোল ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা ঠিকই দিয়ে রাখলেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।
0 মন্তব্য