মিরপুরে ইতিহাস লেখা আগেই যেন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। শেষ দিনের অপেক্ষা ছিল শুধু শেষ উইকেটটির। সেই কাজটি করে দেন নাহিদ রানা। আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এটি বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথমবার পাকিস্তানকে হারানোর পর সেই সিরিজে স্বাগতিকদের ধবলধোলাইও করেছিল বাংলাদেশ।
শেষ দিনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৫২.৫ ওভারে প্রতিপক্ষকে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা। নাহিদ রানা ছিলেন সবচেয়ে ভয়ংকর। ইনিংসে ৪০ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন এই গতিতারকা। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আউট করে ইনিংসে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন তিনি।
শেষ ৭ উইকেট মাত্র ৪৪ রানে হারায় পাকিস্তান। এক ঘণ্টা ৫০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। নাহিদের সঙ্গে দারুণ বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদও।
তবে পাকিস্তানের হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজল। তিন নম্বরে নেমে ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। প্রথম ইনিংসেও ফিফটি করেছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
নাহিদের এটি টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টোনে ৬১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে গড়েছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন অধিনায়ক শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১০১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করেন তিনি।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারেননি আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও শান্ত। দলীয় ১৬৪ রানে ২২ রান করে আউট হন মুশফিক। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত।
প্রথম ইনিংসে শান্তর সেঞ্চুরি এবং মমিনুল হক ও মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে অভিষিক্ত আজান ওয়াইসর সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটিতে ৩৮৬ রান তোলে পাকিস্তান।
দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ১৬ মে সিলেটে শুরু হবে।
0 মন্তব্য