আম্মু, আমি আসছি’—রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে পাঠানো এটিই ছিল সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির শেষ বার্তা। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় পুরো সময়ই মা-বাবার সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ। তাঁদের জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর ‘দ্বীপ’ নামে তাঁর এক জুনিয়র সহকর্মী বাসার নিচ থেকে ডাকলে মাকে কথা বলে ফিরে আসার কথা জানিয়ে বাইরে যান তিনি। এরপর পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর যোগাযোগ হয়নি।
ছেলের খোঁজে পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করলেও তাঁকে পাননি। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের ফোনে একটি বার্তা আসে—‘আম্মু, আমি আসছি।’ কিন্তু এরপরও তিনি বাসায় ফেরেননি।
তাহসিফের বাবা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে খারাপ কোনো খবর নেই। তবে পরদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নদ থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাবা বলেন, ওই এলাকায় যেতে আটিপাড়া হয়ে যেতে হয়। তবে তাঁর ছেলে আগে কখনো সেখানে গিয়েছিলেন বলে তিনি জানেন না। কারা বা কী কারণে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়েও কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।
চাকরিচ্যুতি নিয়ে পরিবারের বক্তব্য
বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাঁর বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।
এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগই নিশ্চিত করতে পারবে। পরিবারকে শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছিল।
চাকরি হারানোর পর তাহসিফ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বলেও জানান তাঁর বাবা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজে কাজ করার পর সর্বশেষ তিনি ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাননি তাহসিফ
ছেলের স্মৃতিচারণা করে তাহসিফের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিলেন। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি বা হুমকির বার্তা তিনি পরিবারকে জানাননি।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ কী এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মরদেহ তুরাগ নদে পাওয়া গেল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
0 মন্তব্য